২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে। ৫৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্রভাবে বিজয়ী হন, আর অন্যান্য দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা পায় ১০টি আসন। এরপর ১১ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক ‘ডামি’ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক ব্যবস্থাও বাতিল করা হয়, যা সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল করে। ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ‘হাইব্রিড’ ও অনুপ্রবেশকারীদের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ শুরু হয়। ৭ জুলাই ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। অবরোধ, গণপদযাত্রা এবং ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরাও এতে যুক্ত হয়।
আন্দোলনের চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা গ্রেপ্তার হন এবং অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ নানা অভিযোগ দায়ের করা হয়।
দলের অভ্যন্তরে ‘নব্যলীগারদের’ প্রাধান্য এবং তৃণমূলের অবহেলা সরকারের পতনে বড় ভূমিকা রাখে। শক্তিশালী নেতারা, যাদের দাম্ভিকতা ছিল চরমে, এখন জেলখানায় বন্দি বা পলাতক। দলীয় ঐক্যের অভাব এবং গণআন্দোলনের চাপ এই পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ